31 Oct 2026
পরিকল্পনা না মানলে বাসযোগ্য ঢাকা নয়ঃ ড্যাপ সংশোধনী পুনর্বিবেচনা ও স্বাধীন পেশাজীবীবিহীন কারিগরি কমিটি বাতিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) উদ্যোগে গত ৩১ অক্টোবর ২০২৬ (শনিবার) সকাল ১১টায় রাজধানীর বাংলামটরস্থ প্ল্যানার্স টাওয়ারের বিআইপি সম্মেলন কক্ষে ‘পরিকল্পনা না মানলে বাসযোগ্য ঢাকা নয়: ড্যাপ সংশোধনী পুনর্বিবেচনা ও স্বাধীন পেশাজীবীবিহীন কারিগরি কমিটি বাতিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন” শীর্ষক একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ড্যাপের সাম্প্রতিক সংশোধনী পুনর্বিবেচনা এবং স্বাধীন পেশাজীবীদের প্রতিনিধিত্ববিহীন কারিগরি কমিটি বাতিলের দাবিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। বিআইপির সাধারণ সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. মু. মুসলেহ উদ্দিন হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিআইপি সভাপতি পরিকল্পনাবিদ ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, বিআইপির উপদেষ্টা পরিষদের আহ্বায়ক এবং সাবেক সভাপতি পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান, বিআইপির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ, সাবেক উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য পরিকল্পনাবিদ মোঃ মাহবুবুর রহমান, বিআইপির কোষাধ্যক্ষ পরিকল্পনাবিদ আবু ছালেহ মোঃ শহীদুল্লাহ, বিআইপির বোর্ড সদস্য (ন্যাশনাল এন্ড ইন্টারন্যাশনাল লিঁয়াজো) পরিকল্পনাবিদ তালহা তাসনিমসহ বিভিন্ন পেশাজীবী ও সাংবাদিকবৃন্দ।
প্রারম্ভিক বক্তব্যে পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. মু. মুসলেহ উদ্দিন হাসান বলেন, ২০২৩ সালে রাজউক কর্তৃক ড্যাপ গেজেট প্রকাশের পর একাধিকবার পর্যালোচনা ও সংশোধনের মাধ্যমে এটি একটি স্থিতিশীল পর্যায়ে পৌঁছেছিল। কিন্তু গত ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত গেজেটে হঠাৎ কিছু অস্বাভাবিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশেষ করে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরবর্তী এলাকায় যেসব পরিবর্তন আনা হয়েছে, তা বিশেষ একটি গোষ্ঠীর স্বার্থে করা হয়েছে বলে বিআইপি মনে করে। এ ধরনের পরিবর্তনের পেছনের কারিগরি প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট কমিটির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
মূল বক্তব্যে বিআইপির সভাপতি পরিকল্পনাবিদ ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, “পরিকল্পনা না মেনে কোনো শহর বাসযোগ্য হতে পারে না, ঢাকাও হবে না।” তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ড্যাপ ২০২২–২০৩৫-এর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংশোধনী আনা হয়েছে। সংশোধনীগুলোর মধ্যে রয়েছে শ্যামপুর-কদমতলী এলাকার বুড়িগঙ্গা নদীর তীরবর্তী তিনটি প্লটের ভূমি ব্যবহার ‘উন্মুক্ত স্থান’ থেকে ‘ভারী শিল্প এলাকা’ হিসেবে পরিবর্তন, পূর্বাচল ও ঝিলমিল প্রকল্পে শর্তসাপেক্ষে অতিরিক্ত ফ্লোর এরিয়া রেশিও (FAR) অনুমোদন এবং ওয়াটার ফ্লো ওভারলে জোনের নির্দেশনার সঙ্গে প্রস্তাবিত ভূমি ব্যবহারের বিরোধ দেখা দিলে ভূমি ব্যবহারের ধরন নির্ধারণে নতুন বিধান যুক্ত করা। তিনি বলেন, এসব সংশোধনীর ফলে নগরের উন্মুক্ত স্থান, জলাধার ও বন্যাপ্রবাহ এলাকা সংরক্ষণের পরিকল্পনাগত ভিত্তি দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে শ্যামপুর-কদমতলীর মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও বায়ুদূষণপ্রবণ এলাকায় ভারী শিল্প স্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি এবং পূর্বাচল ও ঝিলমিল এলাকায় অতিরিক্ত FAR অনুমোদন নগরের পরিবেশ, অবকাঠামো ও জনজীবনের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, ওয়াটার ফ্লো ওভারলে জোনের সুরক্ষার ক্ষেত্রে খতিয়ানে ভূমির শ্রেণি উল্লেখ থাকার শর্ত যুক্ত হওয়ায় বাস্তবে পানি ধারণকারী অনেক জমি সুরক্ষার বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ড্যাপ সংশোধনের জন্য গঠিত নয় সদস্যের কারিগরি কমিটিতে সরকারি কর্মকর্তাদের বাইরে কোনো পেশাজীবী সংগঠন, নগর পরিকল্পনাবিদ, পরিবেশবিদ কিংবা নাগরিক প্রতিনিধির অন্তর্ভুক্তি নেই। অথচ এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পরিবেশগত প্রভাব এবং সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর ওপর সম্ভাব্য প্রভাব মূল্যায়ন করা অত্যন্ত জরুরি। প্রয়োজনীয় সমীক্ষা, পেশাগত পরামর্শ ও জনস্বার্থ বিবেচনা ছাড়া পরিকল্পনার মৌলিক পরিবর্তন গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ড্যাপের নির্ধারিত পাঁচ বছর মেয়াদি পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমন্বিত গবেষণা ও মূল্যায়নের ভিত্তিতেই ভূমি ব্যবহারের পরিবর্তন আনা উচিত। এসময় তিনি ঢাকার বিদ্যমান নগর সংকট তুলে ধরে বলেন, বায়ুদূষণ, জলাবদ্ধতা, খাল ও জলাধার বিলুপ্তি, যানজট, শব্দদূষণ, উন্মুক্ত স্থানের স্বল্পতা, নগর তাপমাত্রা বৃদ্ধি, আবাসন সংকট এবং অপরিকল্পিত শিল্প ও রাসায়নিক গুদাম স্থাপনসহ নানা সমস্যায় ঢাকা ইতোমধ্যে বিপর্যস্ত। এ পরিস্থিতিতে পরিকল্পনার মূল কাঠামোকে আরও দুর্বল করে এমন সিদ্ধান্ত নগরের বাসযোগ্যতাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. মু. মুসলেহ উদ্দিন হাসান তাঁর বক্তব্যে বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ‘I Have a Plan’ ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু গত কয়েক মাসের কার্যক্রমে পরিকল্পনার বাস্তবায়নের পরিবর্তে পরিকল্পনা লঙ্ঘনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এতে মনে হচ্ছে, সচিবালয় ও মন্ত্রণালয়ের একটি পক্ষ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের এই উদ্যোগকে নস্যাৎ করার চেষ্টা করছে। পুরান ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়, যেখানে এমনিতেই খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত স্থানের অভাব রয়েছে, সেখানে ভারী শিল্পের অবস্থান অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি ড্যাপ সংশোধনের জন্য কারিগরি কমিটি গঠনে সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকারকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পরিকল্পনা প্রক্রিয়ায় ফ্যাসিবাদের শিকড় উপড়ে ফেলতে না পারলে, স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর প্রভাব ও অনিয়ম দূর করা না গেলে সরকারের পরিকল্পিত উন্নয়নের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না।
পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান তাঁর বক্তব্যে বলেন, পরিকল্পনার ক্ষেত্রে বর্তমানে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার জন্য ‘পরিকল্পনার ফ্যাসিবাদ’ শব্দটি যথাযথ। দীর্ঘদিন ধরে একটি বিশেষ ব্যবসায়ী ও শিল্পগোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থে জনস্বার্থ ও পরিকল্পনাকে উপেক্ষা করে আসছে, যা বিভিন্ন সময়ে সরকারের সমর্থন ও বৈধতাও পেয়েছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর অনেক প্রত্যাশা ছিল, কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, পরিকল্পনা লঙ্ঘনের প্রবণতা আরও বেড়েছে। তিনি বলেন, পেশাজীবী পরিকল্পনাবিদ ও সাধারণ জনগণের মতামত উপেক্ষা করে সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত কারিগরি কমিটির মাধ্যমে ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর স্বার্থে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, একদিকে সরকার খাল খনন ও জলাধার সংরক্ষণের কথা বলছে, অন্যদিকে জলাধার সংরক্ষণ এলাকায় আবাসিক ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। পূর্বাচল এলাকায় নির্বিচারে FAR বৃদ্ধি নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি সরকারকে জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে পরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা এবং অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে পেশাজীবীদের উন্নয়ন কার্যক্রমের সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করে ড্যাপের জনস্বার্থবিরোধী সংশোধনী বাদ দেওয়ার দাবি জানান। তিনি সতর্ক করেন, সাময়িক স্বার্থে নেওয়া সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে নগরকে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে ফেলতে পারে।
পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ বিআইপির উত্থাপিত সাতটি দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান। তিনি বলেন, ড্যাপ সংশোধনের জন্য গঠিত নয় সদস্যের কমিটিতে সরকারি কর্মকর্তাদের বাইরে পেশাজীবী পরিকল্পনাবিদ ও সাধারণ জনগণের কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই। এ ধরনের কমিটি গঠনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি মন্তব্য করেন, এটি কর্তৃপক্ষের ইচ্ছানুযায়ী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি করছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর পর ড্যাপ পর্যালোচনা ও সংশোধনের কথা রয়েছে। বিশেষ প্রয়োজনে সংশোধনের সুযোগ থাকলেও তা বিচ্ছিন্ন ও খণ্ডিতভাবে করা যাবে না; বরং সংশোধন প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, পূর্বাচল প্রকল্পে দীর্ঘদিনেও পরিকল্পিত আবাসন ও হাউজিং মার্কেট গড়ে না ওঠার কারণ পর্যালোচনা করে প্রকৃত আবাসনপ্রত্যাশীদের অগ্রাধিকার দিয়ে বরাদ্দপ্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে পরিকল্পিত আবাসন উন্নয়নে Public-Private Partnership (PPP) বিবেচনারও আহ্বান জানান।
প্রশ্নোত্তর পর্বে পূর্বাচলে ইতোমধ্যে বরাদ্দপ্রাপ্ত প্লটগুলোর বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. মু. মুসলেহ উদ্দিন হাসান বলেন, বিদ্যমান প্লট বরাদ্দের বিষয়টি প্রয়োজন অনুযায়ী বাতিলের বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। একই সঙ্গে পূর্বাচলের জন্য ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী হবে এবং প্রকৃত আবাসনপ্রত্যাশীদের কীভাবে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, তা নির্ধারণ করা জরুরি।
বিআইপির পক্ষ থেকে সভাপতি পরিকল্পনাবিদ ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম সাত দফা দাবি তুলে ধরেনঃ
১। সংশ্লিষ্ট গেজেট সংশোধনী বাতিল: উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণ, ভূমি ব্যবহার ও ভারী শিল্পকারখানা স্থাপনসংক্রান্ত সংশোধনীগুলো পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন কারিগরি পর্যালোচনা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর করা যাবে না। পর্যালোচনায় জনস্বার্থবিরোধী বা পরিকল্পনাগতভাবে অযৌক্তিক প্রমাণিত হলে সংশোধনী বাতিল করতে হবে।
২। বর্তমান কারিগরি কমিটি বাতিল: বর্তমান কারিগরি কমিটি বাতিল করে সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্বাধীন পেশাজীবীদের অন্তর্ভুক্ত করে নতুন কমিটি গঠন করতে হবে।
৩। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্ত: সংশোধনী প্রণয়ন ও অনুমোদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রতিটি ধাপ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার বা ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত স্বার্থের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
৪। পরিকল্পনাগত ও পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন: উন্মুক্ত স্থানে ভারী শিল্পকারখানা স্থাপনের ফলে পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য, নগরের বাসযোগ্যতা, ভূমি ব্যবহারের ভারসাম্য ও নাগরিক সুবিধার ওপর সম্ভাব্য প্রভাবের বিস্তারিত মূল্যায়ন প্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি উন্মুক্ত স্থানের ঘাটতি পূরণের পরিকল্পনা দিতে হবে।
৫। স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক পর্যালোচনা: রাজউক, বিআইপি, সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ, পরিবেশবিদ, নগর পরিকল্পনাবিদ ও নাগরিক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে স্বচ্ছ পর্যালোচনা নিশ্চিত করতে হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিবর্তনের আগে পেশাজীবীদের মতামত গ্রহণ ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যালোচনা বাধ্যতামূলক করতে হবে।
৬। রাজউকের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও জবাবদিহি: সংশোধনীগুলো কেন, কোন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে এবং কী কারিগরি যুক্তিতে আনা হয়েছে, তা রাজউককে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। পরিকল্পনা প্রক্রিয়া অনুসরণ, উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণ ও জনস্বার্থ রক্ষায় রাজউকের অবস্থানও জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।
৭। নগর পরিকল্পনায় কৌশলগত পরিবেশগত মূল্যায়ন বাধ্যতামূলক করা: রাজউকসহ দেশের সব সংস্থার নগর ও ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনায় কৌশলগত পরিবেশগত মূল্যায়ন (SEA) বাধ্যতামূলক করতে হবে এবং এ জন্য প্রয়োজনীয় আইন ও বিধিমালা প্রণয়ন করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা ড্যাপের সাম্প্রতিক সংশোধনী বাতিল, সংশোধনের ক্ষেত্রে যথাযথ গবেষণা ও কারিগরি মূল্যায়ন নিশ্চিত করা এবং পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সংশোধন প্রক্রিয়ায় পেশাজীবী পরিকল্পনাবিদ ও সাধারণ জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। পরিশেষে পরিকল্পনাবিদ আরিফুল ইসলাম সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে সংবাদ সম্মেলনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।