Blog

26 Jul 2013

Author: S.M. Faysal Kabir Shuvo

নিম্ন এবং মধ্যম আয়ের নাগরিকদের আবাসন নামের 'মরিচীকা'- কিছু পরিসংখ্যান এবং কঠোর বাস্তবতা

অতি সম্প্রতি নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ঢাকার উপকণ্ঠে সাটেলাইট শহর প্রকল্প বিষয়ক ভারতের সাহারা গ্রুপের বিনিয়োগ একটি লেখায় (সূত্র-১) আমি মন্তব্য করেছিলাম যে আদতে 'নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্যে' আবাসনের কথা বলা হলেও ঐ আবাসনের ভোক্তা গ্রুপের মধ্য আর সবাই থাকলেও যে নিম্ন বা মধ্যম আয়ের জনগোষ্ঠীর কেউ থাকবেনা এটা নিশ্চিত। এই নোটটিতে তার স্বপক্ষেই যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে এবং তা বাস্তব তথ্য দিয়েই। (সাটেলাইট শহর প্রকল্প বিষয়ক বিদেশী বিনিয়োগ) নিয়ে ব্যাপক ভিত্তিক লেখা-লিখি এবং সংবাদ সম্মেলন চলছে সমসাময়িক গণমাধ্যমে। REHAB এর সংবাদ সম্মেলন তার প্রমাণ। অনেক প্রশ্নের মধ্যে যে প্রশ্ন সবার আগে উদয় হচ্ছে, REHAB নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য কি করেছে ? উত্তর বা সমালোচনায় যাব না, কারণ বিষয়টি উপর্যুক্ত শিরোনামের সাথে প্রযোজ্য নয় বা আলোচ্য অংশকে শুধু দীর্ঘায়িত করবে। তার চেয়ে বরং প্রকল্প উদ্যোক্তা রাজউক নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য কি করছে এবং কাদেরকে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ ভাবছে, সে বিষয়ে কিছু চিন্তার অবতারণা করতে চাই।

রাজউকের (সূত্র-২) চলমান প্রকল্প: সম্প্রসারিত উত্তরা (৩য় পর্ব) প্রকল্পের ১৮ নং সেক্টরে “এ” ক্যাটেগরীর ফ্ল্যাট বরাদ্দের প্রসপেক্টাস- ২০১২ নিয়েই কিছু প্রশ্ন এবং বিশ্লেষণ তুলে ধরতে চাই। প্রসপেক্টাসের প্রথম লাইন-সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি তথা ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার আলোকে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের আবাসন সমস্যা নিরসনের লক্ষে বহুতল এ্যাপার্টমেন্ট ভবন নির্মাণের পদক্ষেপ গ্রহণ করিয়াছে। আসুন এবার নিম্ন ও মধ্যম আয়ের আলোচনার আগে আরো কিছু দরকারী তথ্য জেনে নিই।


প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দের জন্য আহবানকৃত ফ্লাটের তথ্যাবলী (সূত্র-৩):

বরাদ্দের ক্যাটেগরী:

আগ্রহী বাংলাদেশী নাগরিকগণ নিম্নবর্ণিত ১৮ (আঠার)টি ক্যাটেগরীতে আবেদন করতে পারবেন।

  • মুক্তিযোদ্ধা
  • সাংবাদিক
  • সরকারী চাকুরিজীবী
  • স্বায়ত্বশাসিত সংস্থায় চাকুরিজীবী
  • সশস্ত্রবাহিনী
  • ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি
  • বেসরকারী চাকুরিজীবী
  • বেসরকারী শিক্ষক
  • শিল্পী/সাহিত্যিক ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব
  • বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী
  • আইনজীবী
  • বেসরকারী কৃষিবিদ
  • বেসরকারী প্রকৌশলী/স্থপতি/পরিকল্পনাবিদ
  • বেসরকারী চিকিৎসক
  • ক্ষতিগ্রস্ত
  • অন্যান্য
  • প্রতিবন্ধী
  • অবশিষ্ঠ (যারা ১৭টি ক্যাটেগরীর কোনটির আওতায় আসবেন না (যেমন: অবসরপ্রাপ্ত সরকারী, বেসরকারী ও স্বায়ত্বশাসিত সংসার কর্মকর্তা/কর্মচারী, সাধারণ নাগরিক, গৃহিনী/শেয়ার বাজারে বিনিয়োগকারী) তাঁরা এ ক্যাটেগরীতে আবেদন করিতে পারিবেন। তবে শর্ত থাকে যে, প্রত্যেকেরই নিজস্ব আয় থাকিতে হইবে।)

মূল্য সংক্রান্ত:

ফ্লাটের আয়তন: ১৬২০ ব: ফুট (নিট ১২৫০ ব: ফুট)
সাময়িক মূল্য*: ৫৬,৭০,০০০/-( প্রতি ব: ফুট ৩৫০০/-)
পার্কিংয়ের জন্য এককালীন: ৩,০০,০০০/-
ইউটিলিটি সংযোগ এককালীন: ২,০০,০০০/-
আপাত ঘোষিত মূল্য: ৬১,৭০,০০০/- মাত্র
*(নির্মাণ সামগ্রীর মূল্যের সাথে কম-বেশী হতে পারে।)

পরিশোধ সংক্রান্ত:

নির্বাচিত হলে ফ্লাটের মূল্যের শতকরা ৫০ ভাগ নির্মাণকালে চারটি বার্ষিক কিস্তিতে সুদবিহীনভাবে পরিশোধযোগ্য। অর্থাৎ প্রথম ৪ (চার) বছর, প্রতিবছর কিস্তির পরিমাণ :
= ৭,০৮,৭৫০/- (সাত লক্ষ আট হাজার সাতশত পঞ্চাশ টাকা মাত্র)

[যদি সুদ দিতে কেউ অনিচ্ছুক হন তাহলে ফ্লাট বরাদ্দের সময় এককালীন(অবশিষ্ট ৫০ ভাগ, পার্কিং ও ইউটিলিটি মিলে) দিতে হবে বাকি ৩৩,৩৫,০০০/-(তেত্রিশ লক্ষ পঁয়ত্রিশ হাজার টাকা মাত্র) টাকা।]

অন্যথায় বরাদ্দ পাওয়ার পর অবশিষ্ট ৫০ ভাগ সর্বোচ্চ ৪(চার) বছরে ১২% কিস্তি সুবিধায় (উল্লেখ নাই সরল নাকি চক্রবৃদ্ধি হার) ৪ (চার) টি বার্ষিক কিস্তিতে পরিশোধযোগ্য। অর্থাৎ পরবর্তী ৪ (চার) বছর সরল হার গণনায়ও প্রতিবছর কিস্তির পরিমাণ :
=৭,৯৩,৮০০/-( সাত লক্ষ তিরানব্বই হাজার আটশত টাকা মাত্র)

তদুপরি কিস্তি সুবিধার আওতায় পার্কিং ও ইউটিলিটি সংযোগের জন্য নির্ধারিত এককালীন ৫,০০,০০০/-(পাঁচ লক্ষ টাকা) বরাদ্দ নেবার সময় প্রদান করতে হবে।অর্থাৎ ফ্লাট নেবার জন্য ন্যুনতম বার্ষিক ৮,০০,০০০/-(আট লক্ষ টাকা) প্রদানের সক্ষমতা থাকতে হবে।

সক্ষমতার বিশ্লেষণ:

বার্ষিক ৮,০০,০০০/-(আট লক্ষ টাকা) প্রদানের সক্ষমতার জন্য মাসিক সঞ্চয় কত হওয়া উচিত ? প্রশ্নটার উত্তর পাঠকদের সম্মানে উন্মুক্ত থাকল।
সর্বমোট প্রয়োজনীয় টাকার অর্ধেক আগে থেকেই জমানো ছিল (যেটা নিম্ন বা মধ্যম আয়ের বেলায় আদৌ সম্ভবপর কিনা প্রশ্নসাপেক্ষ) ধরে নিয়ে বাকি অর্ধেকের জন্য মাসিক সঞ্চয়:
৪,০০,০০০/১২ = ৩৩,৩৩৩/-(তেত্রিশ হাজার তিনশত তেত্রিশ টাকা মাত্র)
তাহলে দৈনিক সঞ্চয় হতে হবে-
৩৩,৩৩৩/৩০ = ১১১১/-(এক হাজার একশত এগারো টাকা মাত্র)
তাহলে মার্কিন ডলারে দৈনিক সঞ্চয়ের পরিমাণ (ডলারের দাম ৮২ টাকা গড়হারে, সূত্র-৪)

১১১১/৮২ = ১৩.৫৫ মার্কিন ডলার (কিছুটা কমবেশি মেনে নেবার অনুরোধ)। এখন যদি কোনো ব্যক্তির দৈনিক আয়ও (হতে হবে সঞ্চয়) ১৩.৫৫ মার্কিন ডলার হয়, তাকে নিম্ন বা মধ্যম আয়ের স্তরে ফেলার সুযোগ আছে কি? এক্ষেত্রে বার্ষিক আয় দাড়ায় মাত্র ৪৯৪৫.৭৫ মার্কিন ডলার।



বিশ্বব্যাংকের আয়ের স্তরবিন্যাস (দেশের জন্য প্রযোজ্য) নিচে দেওয়া হলো-
low income -----------------------------------------$1,005 or less
lower middle income ------------------------------$1,006 - $3,975
upper middle income------------------------------$3,976 - $12,275
high income-----------------------------------------$12,276 or more
(সূত্র: http://data.worldbank.org/about/country-classifications)

এদিকে বিনিয়োগ বোর্ডের তথ্য সারণী থেকে দেখা যায়, বাংলাদেশের মানুষের গড় সামষ্ঠিক জাতীয় আয় ৪৯৪৫.৭৫ মার্কিন ডলারের অনেক নিচে। সর্বশেষ তথ্য সম্বলিত ছক নিচে দেওয়া হলো:

GDP data 06-07 07-08 08-09 09-10 10-11 (p*)
GDP (BDT) 4,724.77 5,458.22 6,147.95 6,943.20 7875.00
GNI* (BDT) 5,077.52 5,942.12 6,706.96 7,589.28 8528.22
Per capita GDP (BDT) 33607 38330 42628 47536 53236
Per capita GNI (BDT) 36116 41728 46504 51959 57652
Per capita GDP (US$) 487 559 620 687 755
Per capita GNI (US$) 523 608 676 751 818

(সূত্র: http://boi.gov.bd/about-bangladesh/bangladesh-at-a-glance)


সুতরাং রাজউক প্রস্তাবিত নিম্ন ও মধ্যম আয়ের অন্তর্ভূক্ত হতে হলে গড় সামষ্ঠিক জাতীয় আয়ের (৪৯৪৫.৭৫/৮১৮)= প্রায় ৬ (৬.০৪৬) গুন বাৎসরিক সঞ্চয়ের ক্ষমতা থাকতে হবে।

কিছু সীমানা প্রস্তাবনা:

যে আঠার ক্যাটেগরীতে আবেদন চাওয়া হয়েছে তার মধ্যে বেসরকারী চাকুরিজীবী, পেশাজীবী, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, আইনজীবী, ব্যবসায়ী-শিল্পপতি, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী, অন্যান্য এবং অবশিষ্ঠদের আয় বা সঞ্চয় প্রয়োজনীয় আয়ের উর্ধ্বে এবং তাদের একাধিক আয়ের উৎস (দুই বা ততোধিক চাকুরি অথবা চাকুরির সাথে ব্যবসা) থাকতে পারে বলে উনারা রাজউক প্রস্তাবিত নিম্ন বা মধ্যম আয়ের স্তরে অন্তর্ভূক্ত ধরে নেওয়া হচ্ছে।

এখন সরকারী চাকুরীজীবী, স্বায়ত্বশাসিত সংস্থায় চাকুরিজীবী, সশস্ত্রবাহিনী অন্তর্ভূক্তদের মধ্যে স্বায়ত্বশাসিত সংস্থায় চাকুরিজীবী-

উচ্চতর বেতন কাঠামো ও কনসালটেন্সির জন্য এবং সশস্ত্রবাহিনী ক্যাটেগরী বৈদেশিক মিশন ও আলাদা বেতন কাঠামোর আওতায় রাজউক প্রস্তাবিত নিম্ন বা মধ্যম আয়ের স্তরে অন্তর্ভূক্ত ধরে নেওয়া হচ্ছে। (অবশ্য সরকারী চাকুরিজীবীদের মধ্যে পুলিশ কর্মকর্তা/কর্মচারীরাও বৈদেশিক মিশনের সুবিধা পাচ্ছেন বর্তমানে।)

বাকি থাকল- সরকারী চাকুরীজীবী; জনগন হিসাবে যাদের বেতন-ভাতাদি আমরাই বহন করি এবং সবসময় তাদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উথ্থাপিত হয়। তাই তাদের অবস্থান নিয়েই এই ফিচারটা সম্পূর্ণ করতে চাই। আরও উল্লেখ করা যায় যে, উচ্চতর বেতন কাঠামোর সরকারী চাকুরিজীবীদের সাধারণত অন্য কোনো ব্যবসা বা চাকুরির সুযোগ নাই। শেয়ার বিনিয়োগ নিয়েও সাম্প্রতিক বিভিন্ন লেখালিখি পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টরা ভালো বলতে পারবেন।

আয়, ব্যয় এবং সঞ্চয় বিশ্লেষণ: (সরকারী চাকুরীজীবী)

সরকারী চাকুরীজীবীদের আয়ের প্রধানতম উৎস- বেতন ও ভাতা। এই বেতন-ভাতার বিষয়টি নির্ধারিত হয় সরকার ঘোষিত বেতন স্কেল অনুযায়ী। সরকার ঘোষিত সর্বশেষ বেতন স্কেল (জাতীয় বেতন স্কেল ২০০৯) এ প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তাদের গ্রেড ১ থেকে ৯ পর্যন্ত এবং বেতন কাঠামো নিম্নরূপ:

গ্রেড বেতনকাঠামো
টাকা৪০,০০০(নির্ধারিত)
টাকা৩৩৫০০-১২০০X৫-৩৯৫০০
টাকা২৯৫০০-১১০০X৬-৩৫৬০০
টাকা২৫৭৫০-১০০০X৮-৩৩৭৫০
টাকা২২২৫০-৯০০X১০-৩১২৫০
টাকা১৮৫০০-৮০০X১৪-২৯৭০০
টাকা১৫০০০-৭০০X১৬-২৬২০০
টাকা১২০০০-৬০০X১৬-২১৬০০
টাকা১১০০০-৪৯০X৭-১৪৪৩০-ইবি৫৪০X১১-২০৩৭০


এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্য সচিব ও সমতুল্য পদ/পদসমূহে ১ম গ্রেডের নির্ধারিত মুল বেতনের (৪০০০০/-) সাথে অতিরিক্ত ৫,০০০/- টাকা যোগ করে ৪৫,০০০/- টাকা (নির্ধারিত) হবে। অতি সম্প্রতি সৃষ্ট সিনিয়র সচিব ও সমতুল্য পদের বেতন ৪২,০০০/-টাকা (নির্ধারিত)।(সূত্র:http://www.mof.gov.bd/en/budget/pay_commission_latest/Pay-Civil%202009.pdf)

অনেকের মত না বুঝার দলে থেকে যা বুঝি তা হচ্ছে বেতন কাঠামোর ছকে সংশ্লিষ্ট গ্রেডের জন্য সর্বোচ্চ বেতন হচ্ছে সর্বডানের অংকটি(মোটা অক্ষরে দেওয়া)। উদাহরণ স্বরূপ:- ৯ম গ্রেডের সর্বোচ্চ বেতন ২০৩৭০/-টাকা হতে পারে, ঐ পদে ১৮ বছর চাকুরি করলে। অতিরিক্ত সচিব বা ২য় গ্রেডের কর্মকর্তার সর্বোচ্চ বেতন হতে পারে ৩৯৫০০/-টাকা এবং ১ম ও তদুর্ধ্ব পদের বেতন নির্ধারিত(Fixed)। এ পর্যন্ত আলোচিত হলো মূল বেতন নিয়ে।

অনেকের মত আমার ধারণা, সরকারী চাকুরীজীবী অন্যান্য অনেক সুবিধা ভোগ করেন। তাই ভাতাদি অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ:

প্রথমেই বাড়ীভাড়া ভাতা, যেটা আবার সবচেয়ে বড় ভাতা এবং ঢাকাতে এই ভাতার হার সর্বোচ্চ; তাই ঢাকা মেট্রোপলিটনের বাড়ীভাড়া ভাতার বিবরণী নিচে দেওয়া হলো:-

মূলবেতন বাড়ীভাড়াভাতারহার(মাসিক)
টাকা৫০০০/- পর্যন্ত মূলবেতনের৬৫% হারে
ন্যুনতম২৮০০/- টাকা
টাকা৫০০১/- হতে১০৮০০/- পর্যন্ত মূলবেতনের৬০% হারে
ন্যুনতম৩৩০০/- টাকা
টাকা১০৮০১/- হতে২১৬০০/- পর্যন্ত মূলবেতনের৫৫% হারে
ন্যুনতম৬৫০০/- টাকা
টাকা২১৬০১/- তদুর্ধ্ব মূলবেতনের৫০% হারে
ন্যুনতম১১৯০০/- টাকা


এছাড়া ১ম গ্রেড হতে ৯ম গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তা ৭০০/- টাকা চিকিৎসা ভাতা ছাড়া আর কোনো ভাতা ঢাকায় চাকুরী করলে প্রাপ্য হবেন না; যদি না প্রেষণে নিয়োজিত হন। প্রেষণের ক্ষেত্রে মূল বেতনের ২০% অথবা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে হলে মূল বেতনের ৩০% ভাতা যুক্ত হবে।
(সূত্র:http://www.mof.gov.bd/en/budget/pay_commission_latest/Pay-Civil%202009.pdf)

এ পর্যায়ে দেশের সর্বোচ্চ বেতনভোগী কর্মকর্তাদের মাসিক আয়ের চিত্র হতে পারে-

পদবী মূলবেতন ভাতাদি সর্বমোট
১।মন্ত্রিপরিষদসচিববাসমমান ৪৫০০০/- ২২৫০০/- ও ৭০০/- ৬৮২০০/-
২।সিনিয়রসচিববাসমমান ৪২০০০/- ২১০০০/- ও৭০০/- ৬৩৭০০/-
৪।অতিরিক্তসচিববাসমমান (গ্রেড-২) ৩৯৫০০/-
(সর্বোচ্চ)*
১৯৭৫০/-ও ৭০০/- ৫৯৯৫০/-
৫।যুগ্মসচিববাসমমান (গ্রেড-৩) ৩৫৬০০/-
(সর্বোচ্চ)*
১৭৮০০/- ও ৭০০/- ৫৪১০০/-


*সর্বোচ্চ ধরে নেওয়া হয়েছে, কিছু পরিবর্তন হতেও পারে।


উপর্যুক্ত তালিকার কর্মকর্তাবৃন্দ সরকারী বাসার সুবিধা গ্রহণ করলে (বাসাভাড়া ভাতা পাবেন না এবং মূল বেতনের ৭.৫% হারে টাকা কাটা যাবে) এবং সর্বনিম্ন ১০% GPF কর্তন করালে মাসের শেষে তাদের প্রাপ্ত বেতন-ভাতাদি মোটামুটি দাড়ায় নিম্নরূপ:

পদবী মূলবেতন GPF কর্তন বাড়ীভাড়া ও অন্যান্যকর্তন সর্বমোট প্রাপ্য
মন্ত্রিপরিষদসচিব বাসমমান ৪৫০০০/- ৪৫০০/- ৩৩৭৫/- ও ২০০০/- ৩৫১২৫/-
সিনিয়রসচিববাসমমান ৪২০০০/- ৪২০০/- ৩১৫০/- ও ২০০০/- ৩২৬৫০/-
সচিববাসমমান (গ্রেড-১) ৪০০০০/- ৪০০০/- ৩০০০/- ও ২০০০/- ৩১০০০/-
অতিরিক্তসচিববা
সমমান(গ্রেড-২)
৩৯৫০০/- (সর্বোচ্চ)* ৩৯৫০/- ২৯৬৩/- ও ২০০০/- ৩০৫৮৭/-
যুগ্মসচিববা
সমমান (গ্রেড-৩)
৩৫৬০০/- (সর্বোচ্চ)* ৩৫৬০/- ২৬৭০/- ও ২০০০/- ২৭৩৭০/-


সরকারী বাসায় না থাকলে খরচ বাড়বে না কমবে সে বিষয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, আবার যেহেতু তাদের ফ্লাটের সম্ভাব্য আবেদনকারী হিসেবে গণ্য করে আলোচনা তাই তাদের নিজস্ব বাসা ঢাকায় নেই বলে ধরা যায়। অধিকাংশ উর্ধ্বতন কর্মকর্তা যারা ঢাকায় চাকুরি করেন তারা সরকারী বাসা পছন্দ করেন বলে সরকারী বাসার খরচ বিবেচনা করে পরবর্তী ধাপে যাচ্ছি (এ বিষয়টি বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ থেকে অনুমিত)। এখানে আরেকটি বিষয় উল্লেখ না করলে বোধহয় কম খরচের ব্যাপার অস্পষ্ট থেকে যাচ্ছে- আর তা হলো, প্রাইভেট বা ব্যক্তি মালিকানাধীন বাসায় ভাড়া থাকলে বর্তমান সময়ে সব মিলিয়ে খরচ সরকারী বাসার চেয়ে কম হবার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।

মাসিক খরচ কেমন হবে তা নির্ধারণ করা অনেকটা জটিল ও তর্কসাপেক্ষ বিষয়। নানা মুনি নানা মত দিতে পারেন। তবে যেহেতু সর্বোচ্চ সঞ্চয় আরাধ্য, সেহেতু ন্যুনতম খরচ বিবেচনায় মাসিক আনুমানিক গড় খরচ ২০,০০০/- টাকা, ধরা যাক। এভাবে হিসাব করলে দেশের সর্বোচ্চ বেতনভোগী কর্মকর্তাবৃন্দের মাসিক সঞ্চয়ের সীমা ৭,৩৭০/- থেকে ১৫,১২৫/- টাকার মধ্যে দাড়ায়। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সর্বোচ্চ ১৫,১২৫/- টাকা বিবেচনায় বাৎসরিক সঞ্চয়ের পরিমান (উৎসব ভাতাসহ) : ১৫,১২৫X১২+৩০,০০০ = ২,১১,৫০০/- টাকা মাত্র।

ধরা যাক, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং উপর্যুক্ত কর্মকর্তাবৃন্দের বিদেশ ভ্রমণের হার যথেষ্ঠ এবং ভ্রমণভাতা থেকে সঞ্চয় ২০০০মার্কিন ডলার, সমমান ১,৬৪,০০০/-টাকা মাত্র।

এমতাবস্থায় উপর্যুক্ত কর্মকর্তাবৃন্দের বাৎসরিক সঞ্চয়ের যে ছক পাওয়া যাবে তা নিচে দেওয়া হলো:-

পদবী বেতন থেকে সঞ্চয় ভ্রমণ ভাতাথেকে সঞ্চয় সর্বমোট সঞ্চয়
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বা সমমান ২,১১,৫০০/- ১,৬৪,০০০/ (২০০০USD) ৩,৭৫,৫০০/-
সিনিয়র সচিব বা সমমান ১,৭৯,৮০০/- ১,৬৪,০০০/ (২০০০USD) ৩,৪৩,৮০০/-
সচিব বা সমমান (গ্রেড-১) ১,৫৮,৬৬৭/- ১,৬৪,০০০/ (২০০০USD) ৩,২২,৬৬৭/-
অতিরিক্ত সচিব বা সমমান (গ্রেড-২) ১,৫৩,৩৮৩/- ১,৬৪,০০০/ (২০০০USD) ৩,১৭,৩৮৩/-
যুগ্ম সচিব বা সমমান (গ্রেড-৩) ১,২১,১৭৩/- ১,৬৪,০০০/ (২০০০USD) ২,৭৬,১৭৩/-


সকল হিসার আনুমানিক। নিজম্ব বিবেচনায় হিসাব কষে দেখতে পারেন সঞ্চয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি অনেক কঠিন এবং এখন থেকে সামনের দিকে খরচ কমার কোনো সম্ভাবনা নেই ও নতুন বেতন স্কেল না হওয়া পর্যন্ত বেতন বাড়ার সুযোগ নেই।




রাজউকের প্রস্তাবের সাথে তুলনা:

রাজউক প্রস্তাবিত নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ফ্লাটের মালিক হওয়ার জন্য সকল দিক থেকে সর্বোচ্চ বিবেচনা করে, সকল সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ সত্ত্বেও দেশ বা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেতন ভোগী কর্মকর্তা সক্ষমতার মানদন্ডে অক্ষম। অক্ষমতার সারাংশ-
রাজউক প্রস্তাবিত নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ফ্লাটের
মালিক হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যুনতম
বাৎসরিক সঞ্চয়.................................................... ৪,০০,০০০/- টাকা মাত্র
মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সম্ভাব্য সর্বোচ্চ
বাৎসরিক সঞ্চয়.................................................... ৩,৭৫,৫০০/- টাকা মাত্র

খাতার শেষ পাতা:

সরকারী-বেসরকারী, পেশাজীবী ও অন্য সকলকে যথাযথ সম্মান দিয়ে বলা হচ্ছে যে, যতই রাজউকের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ থাকুক না কেন, উপর্যুক্ত আলোচনার পর যারা এই প্রকল্পের ফ্লাট নেবার যোগ্য তাদেরকে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের বলা যায় না কোনোভাবেই। আর যদি তাদের মধ্যম আয়ের কাতারে ফেলি তাহলে মুষ্টিমেয় কয়েকজন (যারা পৈতৃক বা শ্বশুরকূল, বিশেষ উপায়ে যোগ্য) ছাড়া অধিকাংশ সরকারী কর্মচারীর সারাজীবনের আরাধনা মধ্যম আয়ের (মধ্যবিত্ত) জীবন, বিশেষ স্বপ্নই হয়ে আছে এবং থাকবে। রাজউক তাদেরকে নিম্ন আয়েরও নিচে ফেলে দিয়েছে। এমতাবস্থায়, সবাই মিলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের স্তরে ওঠার স্বপ্নের সিড়ি খোঁজা বৈকি অন্য কিছু করার নেই; যেখানে বাৎসরিক ন্যুনতম সঞ্চয় হবে ৮,০০,০০০/-(আট লক্ষ টাকা) সমপরিমাণ ৯৮৯১.৫০$(নয় হাজার আটশত একানব্বই দশমিক পাঁচ) মার্কিন ডলার মাত্র ।

তথ্যসূত্র:

সূত্র-১:
http://www.banglanews24.com/detailsnews.php
nssl=a711403bdb36564f4ffff9b0d6cce2b7&nttl=20120602060343116045)

সূত্র-২:
www.rajukdhaka.gov.bd

সূত্র-৩:
http://www.rajukdhaka.gov.bd/rajuk/uttara3rdphase/flat_Prospectus.pdf

সূত্র-৪:
http://www.exchangerates.org.uk/USD-BDT-exchange-rate-history.html)

** ছবিগুলো ইন্টারনেট থেকে সংগৃহিত

দায়মুক্তিঃ এই লেখাটির সম্পূর্নতথ্য-উপাত্ত একজন সরকারী চাকুরীজীবি থেকে সংগৃহিত এবং সংগত কারনে তার নাম প্রকাশ করা হচ্ছেনা তবে তার পূর্ন সম্মতিতেই এই নোটটি লেখা হয়েছে