পরিকল্পিত ও সুষম উন্নয়ন নিশ্চিতকল্পে ‘পরিকল্পনা ক্যাডার’ সৃষ্টির বাস্তবতা ও বি.আই.পি.-র সুপারিশ

বাংলাদেশের নগরায়নের বর্তমান প্রেক্ষাপট:
বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঘণবসতিপূর্ণ দেশ। বিগত শতক ধরে দেশটির জনসংখ্যা দ্রুতগতিতে বেড়ে চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামীতেও দেশে দ্রুতগতিতে নগরায়ন হবে এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু আমাদের দেশে দ্রুত নগরায়ন হচ্ছে সম্পুর্ণ অপরিকল্পিত উপায়ে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামীতে আমাদের ছোট-বড় অনেক শহর অনিয়ন্ত্রিত উন্নয়নের কারণে বাসযোগ্যতা হারাবে। বর্তমানে দেশের জিডিপি-তে নগরসমূহের সামগ্রিক অবদান ৬০ ভাগ। উল্লেখ্য যে, জিডিপি-তে শুধুমাত্র ঢাকা শহরের একক অবদানই ৩৬ ভাগ। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নগরসমূহের একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা থাকা সত্ত্বেও অকার্যকর নগর ব্যবস্থাপনা ও অপরিকল্পিত ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের কারণে নগরায়ন আমাদের জন্য অন্যতম অপার সম্ভাবনার ক্ষেত্র না হয়ে বরং পর্যায়ক্রমে আমাদের জীবনকে সমস্যার আবর্তে নিপতিত করছে। বাধাগ্রস্থ হচ্ছে দেশের সামগ্রীক অর্থনীতি, সুসমন উন্নয়ন। এখনই এর রাস টেনে না ধরতে পারলে ছোট মাঝারী কোন শহর এমনকি গ্রামও এর থেকে নিস্তার পাবেনা।

 

অপরিকল্পিত নগরায়নের প্রভাব:
অপরিকল্পিত ও অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ন মানুষের জীবনে বহুমাতৃক সমস্যার জন্ম দিচ্ছে। অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে শহরের নাগরিক পরিসেবা বাধাগ্রস্থ হচ্ছে, সকল শ্রেণি পেশার মানুষের জন্য যথাযথ আবাসন ও অবকাঠামো উন্নয়নের প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। এর পাশাপাশি শহরে যানজট, জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ দূষণ ইত্যাদি মানুষের জীবনকে অসহনীয় করে তুলছে। অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে নগরবাসীর চিত্ত বিনোদনের সুযোগ সুবিধা কমে যাচ্ছে, খেলার মাঠ ও জলাধার হারিয়ে যাচ্ছে এবং বাধাগ্রস্থ হচ্ছে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের সার্বিক বিকাশ। পারস্পারিক সামাজিক যোগাযোগ ও সম্প্রীতির যে চিরায়ত বাঙ্গালী সংস্কৃতি আমরা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ধারণ করে আসছি অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে তা প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। যথাযথ নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ চিত্ত বিনোদনের জন্য প্রয়োজনীয় উন্মুক্ত স্থান সংকুচিত হয়ে পড়ায় মানুষ ক্রমশঃ গৃহমুখী হয়ে ব্যক্তিকেন্দ্রিক জীবন যাপনে অভ্যস্থ হয়ে পড়ছে। একটি সমন্বিত পরিকল্পনার আলোকে সমগ্র দেশে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত না করে শুধুমাত্র বড় শহরকেন্দ্রীক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠায় প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ তাঁদের জীবন-জীবিকা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসাসেবাসহ নানাবিধ কারণে নগরে স্থায়ী ও অস্থায়ী ভিত্তিতে পাড়ি জমাচ্ছে। এর ফলে নগরে মানুষের চাপ বেড়ে গিয়ে একদিকে যেমন নগর ব্যবস্থার উপর বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি হচ্ছে অন্যদিকে কর্মসংস্থানের প্রয়োজনে বড় বড় নগরে ছুটে আসা দরিদ্র মানুষের একটি উল্লেখ্যযোগ্য অংশের স্থান হচ্ছে বস্তি বা ফুটপাথে যা নগরে নানাবিধ সামাজিক সমস্যার জন্ম দিচ্ছে। অপরিকল্পিত ও অনিয়ন্ত্রিত নগরায়নের ফলে প্রতিবছর আমাদের অসংখ্য মূল্যবান কৃষি জমি নষ্ট হয়ে খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। সুষম উন্নয়ন পরিকল্পনার অভাবে আঞ্চলিক পর্যায়ে যথাযথ সংযোগ স্থাপিত না হওয়ায় আমাদের জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নের সামগ্রিক প্রচেষ্টাও বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।

 

সুস্থ নগরায়ন প্রক্রিয়া:
নগর হচ্ছে মনুষ্য তৈরী বিশালতম যন্ত্র বা সিস্টেম। সুপরিকল্পিতভাবে নির্মিত সিস্টেমের বিভিন্ন অংশ সুসম্মন্বিতভাবে কাজ করার ফলে এ থেকে সর্বোচ্চ সুফল পাওয়া যায়। শিল্প, বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খেলাধূলা, বিনোদন, পর্যটন, আবাসন ইত্যাদিসহ সকল নাগরিক কার্যক্রম কাঙ্খিত আন্তঃসম্পর্কের ভিত্তিতে স্থানিকভাবে বিন্যস্ত হয়। এর সাথে যুক্ত হয় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক প্রান্তর, জলাধার, বন ইত্যাদি। অন্যথায় নগরী ইট কাঠের বস্তিতে পরিণত হয়। এসবকিছুকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সর্বশেষ সক্ষমতার ছোঁয়ায় নির্মিত অবকাঠামো ও পরিসেবার মাধ্যমে সচল ও যুক্ত করে নাগরিকদের ব্যক্তি, পরিবার ও সামাজিক জীবনকে সহজ ও সুখময় করে তোলা হয়।

 

সুস্থ নগরায়ন প্রক্রিয়ায় নগর পরিকল্পনাবিদের ভূমিকা:
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সময়ের সাথে এগিয়ে যায়। সেই সাথে মানুষের জীবনবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গি হয় পরিবর্তিত। ফলে বদলে যায় মানুষের আকাঙ্খা, জীবন শৈলী। নগরীকে এই শতত পরিবর্তনশীলতা ধারণ করতে হয়। নয়তো সময়ের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন।

 

সময়ের সাথে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, জীবনবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গি, মনন ও মনস্তত্ব, অর্থ ও রাজনীতি ইত্যাদি সকল কিছুর পরিবর্তনের গতি প্রকৃতি বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য আগামীকে অনুধাবন এবং নগরের পরিসরের কাঙ্খিত বিন্যাসে ধারণ করার আগাম পরিকল্পনার গুরুদায়িত্ব পৃথিবীব্যাপি নগর পরিকল্পনাবিদ পালন করে থাকেন। সঙ্গতকারণেই তাঁদের সমাজ বিজ্ঞান, উন্নয়ন অর্থনীতি, ভূ-প্রকৃতি ও ভূমিরুপ, প্রাকৃতিক নিষ্কাষন যাতায়াত ব্যবস্থাসহ আরও বহু বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে হয় যা তাদের এই জটিল মিথস্কক্রিয়া বুঝতে ও ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় সমাধান দিতে সক্ষম করে তোলে। পরিকল্পনা প্রনয়ন প্রক্রিয়ায় মাঠ পর্যায়ে আর্থ সামাজিক, ভৌত অবস্থা জানার জন্য জরিপ পরিচালনা, প্রাপ্ত ডাটা প্রক্রিয়া করে উদ্দিষ্ট তথ্যে রুপান্তর করার জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি জ্ঞানও তারা অর্জন করে থাকে। এছাড়াও বিভিন্ন প্রকার উপস্থাপনা তৈরী ও উপস্থাপন, রিপোর্ট ও ম্যাপ প্রস্তুতিতে সর্বশেষ প্রযুক্তির ব্যবহারে তাদের সক্ষম করে তোলা হয়। এই সক্ষমতা তাদের ভৌত পরিকল্পনা প্রনয়নে সক্ষম ও অনন্য করে তোলে।

 

নগর পরিকল্পনাবিদদের কাজের ক্ষেত্র:
নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনাবিদগণের বিশেষায়িত কাজের ক্ষেত্র হচ্ছেঃ
 নগর/ অঞ্চলসহ সকল পর্যায়ের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রনয়ন
 উক্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে করনীয় নির্দেশ
 উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা নির্দেশ ও পরিচালনা
 পরিকল্পনা পরিপন্থী প্রকল্প বা নির্মাণ রোধে সিদ্ধান্ত/নির্মাণ পর্যায়ে তা রোধ করা
 বিভিন্ন প্রকার এ্যাকসন প্ল্যান প্রণয়ন
 ট্রান্সর্পোট প্ল্যান প্রণয়ন
 ড্রেনেজ প্ল্যান প্রণয়ন
 দূর্যোগ প্রশমন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালনা
 কোন প্রকল্প/ স্থাপনার জন্য পারিপাশ্বিক পরিবেশের উপর তার প্রভাব নির্ণয়
 কোন প্রকল্প/পরিকল্পনা/স্থাপনা/নীতির পারফরমেন্স মাঠ পর্যায়ে পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন করে করনীয় নির্দেশ

 

পরিকল্পনাবিদদের সিদ্ধান্ত যেখানে শেষ স্থপতি ও প্রকৌশলীর কাজ সেখানে শরু হয়। যেহেতু তাঁদের শিক্ষা, কাজের ক্ষেত্র ও ফোকাস সম্পূর্ণ ভিন্ন, তাদের কর্মক্ষেত্রে কোন দ্বন্দ নেই।



নগর ব্যবস্থাপনায় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা:
মাত্র কয়েক দশক আগে পরিকল্পনা পেশার সঠিক মূল্যায়ণের ফলে ভাগ্য বদলে গেছে উন্নয়নশীল দেশ মালয়েশিয়ার। একটি সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে বদলে গেছে দেশটির অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার মান। আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা বর্তমানে পৃথিবীর অনেক দেশই অনুসরণ করে থাকে। মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতাকে বিবেচনায় নিয়ে আমরাও আমাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে জাতীয় থেকে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত পরিকল্পনা পেশার সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারি। এছাড়াও কলম্বিয়ার বগোটা অথবা আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের বিভিন্ন শহর, যেমন- দিল্লী, মুম্বাই, চেন্নাই, কলকাতা ইত্যাদি আমাদের কাছে হতে পারে আদর্শ উদাহরণ। মাত্র কয়েক বছর আগে সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করে ভারত তার উল্লেখিত শহরসমূহকে যেভাবে পরিকল্পিত নগরে রূপান্তর করেছে তা আমাদের জন্য শিক্ষণীয় হতে পারে। শুধুমাত্র উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন, জীবনমানের উন্নয়ন ও নগরের বাসযোগ্য পরিবেশের উন্নয়ন ঘটিয়ে বর্তমানে এই শহরগুলো ভারতের জাতীয় অর্থনীতিতে ভূমিকা রেখে চলেছে। আর এই অগ্রযাত্রার মূলে ছিলো তাদের পরিকল্পনাবিদগণের সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তার বাস্তবায়ন।

 

বাংলাদেশে নগর পরিকল্পনা বিষয়ে প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা:
দেশের নগর ও অঞ্চলসমূহের পরিকল্পিত বিকাশ নিশ্চিত করার অভিপ্রায়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষিত লোকবল তৈরীর উদ্দেশ্য নিয়ে ১৯৬৯ সালে সর্বপ্রথম বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে নগর পরিকল্পনা বিষয়ে পাঠ্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে ১৯৯১ এবং ১৯৯৮ সালে যথাক্রমে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে নগর ও গ্রামীণ/অঞ্চল পরিকল্পনা বিষয়ে পাঠ্যক্রম চালু করে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক পর্যায়ে পাঠ্যক্রম চালু করেছে এবং ইতোমধ্যেই আরো কিছু সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় এ বিষয়ে পাঠ্যক্রম প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে মর্মে বি.আই.পি. অবহিত রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতিবছর প্রায় ১০০ জন গ্রাজুয়েট পরিকল্পনাবিদ উন্নত পরিকল্পনা শিক্ষা নিয়ে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের উপযোগী হয়ে বের হচ্ছে। আগামী ৩-৪ বছরের মধ্যে বাকী তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করে বের হওয়া পরিবল্পনাবিদরা এর সাথে যুক্ত হয়ে তা প্রতিবছরে প্রায় ২৫০-তে গিয়ে দাড়াবে।

 

কিন্তু দুক্ষজনক হলেও সত্য আমাদের দেশে পরিকল্পনাবিদগণ তাদের দক্ষতা এবং যোগ্যতা কাজে লাগাতে পারছে না শুধুমাত্র উপযুক্ত কর্মক্ষেত্রের অভাবে। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশনে নগর পরিকল্পনাবিদদের জন্য কোন ক্যাডার সার্ভিস চালু নেই। অথচ দেশের অর্থে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষিত মেধাবী পরিকল্পনাবিদগণ শুধুমাত্র উপযুক্ত কর্মক্ষেত্রের অভাবে বর্তমানে বর্হিঃবিশ্বে কর্মরত আছে এবং প্রতিবছর এ সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে।

 

দেশের নগর পরিকল্পনার বর্তমান বাস্তবতায় বি.আই.পি.-র সুপারিশমালা:
বাংলাদেশের নগর পরিকল্পনার সামগ্রিক অবস্থা পর্যালোচনা পূর্বক বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বি.আই.পি.) সরকারের সংশ্লিষ্ট নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে নিম্নরূপ দাবীসমূহ উত্থাপন করছে:

 

১. বাংলাদেশের মত জনবহুল একটি দেশে ভূমি স্বল্পতার বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে অবিলম্বে দেশের নগর, অঞ্চল ও গ্রামসমূহকে একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনার আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এজন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কেন্দ্রসমূহে ‘নগর ও অঞ্চল/গ্রাম পরিকল্পনা’ বিষয়ে উপযুক্ত প্রশাসনিক কাঠামো তৈরী করে ‘নগর পরিকল্পনা ক্যাডারের’ মাধ্যমে পরিকল্পনাবিদদের নিয়োগ প্রদান এখন অপরিহার্য।



২. জাতীয় পর্যায়ে নগর ও আঞ্চলিক পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রকল্পসহ অবকাঠামো উন্নয়নের সকল প্রকল্প যথাযথভাবে পর্যালোচনা ও মূল্যায়নের জন্য বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনে ‘General Cadre/Post’ এ নগর পরিকল্পনা বিষয়ে একটি পৃথক ক্যাডার সৃষ্টি অতীব জরুরী।

 

৩. মূল্যবান কৃষিভূমি সুরক্ষা ও সমগ্র দেশকে একটি সমন্বিত পরিকল্পিত ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় নিয়ে আসার জন্য সরকারের জাতীয়, আঞ্চলিক এবং তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে যথাযথ সমন্বয় অত্যাবশ্যক। সমগ্র দেশের জন্য একটি ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের স্বার্থেই সংশ্লিষ্ট সরকারী প্রতিষ্ঠানসমূহে নগর পরিকল্পনা ক্যাডার সৃষ্টি করে পরিকল্পনাবিদদের উপযুক্ত কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের পথ উন্মুক্ত করার কোন বিকল্প নেই।

 

৪. দেশের আভ্যন্তরীন যোগাযোগ ব্যবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট সরকারের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি মন্ত্রণালয়, যথা- যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রলণালয় ও নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ে উপযুক্ত ক্যাডার সৃষ্টি করে পরিকল্পাবিদ নিয়োগের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এছাড়াও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় এবং পর্যটন মন্ত্রণালয়ে ক্যাডার সার্ভিসের মাধ্যমে নগর পরিকল্পনাবিদ নিয়োগ প্রদান করে পরিকল্পনাবিদদের জন্য উপযুক্ত সরকারী কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি করা প্রয়োজন।

 

৫. বিসিএস ক্যাডার সার্ভিসের আবেদন ফরম পূরণের সময় ডিগ্রী সুনির্দিষ্ট না থাকার কারণে নগর ও অঞ্চল/গ্রামীণ পরিকল্পনা বিষয়ের স্নাতক/স্নাতকোত্তর ডিগ্রীধারী একজন গ্র্যাজুয়েটকে বিড়ম্বনার সম্মুখীন হতে হয়। ডিগ্রীর সুনির্দিষ্ট নাম BURP বা MURP উল্লেখ না থাকায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট গ্র্যাজুয়েটরা ‘Name of Degree’ অংশে Others (If None of Above is Applicable) উল্লেখ করে থাকেন। পরবর্তীতে ডিগ্রীর বিষয়বস্তু উল্লেখ করতে গিয়ে Physical Planning, Regional Planning, Structural, Town Planning এবং Urban Planning ইত্যাদি বিষয়াবলী সংযুক্ত থাকায় তা সুনির্দিষ্টকরণে অধিকতর সমস্যার সৃষ্টি হয়। মূলতঃ নগর পরিকল্পনা বিষয়ে একজন গ্র্যাজুয়েট তাঁর স্নাতক (Bachelor of Urban and Regional/Rural Planning বা BURP) এবং স্নাতকোত্তর Masters of Urban and Regional/Rural Planning বা MURP) প্রোগ্রামে উল্লেখিত সবগুলি বিষয়ই অধ্যায়ন করে থাকে।

 

এই প্রেক্ষিতে ‘Name of Degree’ অংশে BURP এবং MURP সংযোজন করে সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে। এছাড়াও স্নাতক ও স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামের ‘Subject of the Degree’ অংশে Physical Planning, Regional Planning, Structural, Town Planning এবং Urban Planning ইত্যাদি বিষয়াবলী পরিবর্তন করে Urban and Regional Planning এবং Urban and Rural Planning উল্লেখ করা জরুরী।

 

 

_________________________________


বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বি.আই.পি.)

 

বিগত ২৫ জুলাই, ২০১৩ তারিখে বি.আই.পি.-র একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন সচিবালয়ে পিএসসি চেয়ারম্যানের সাথে একটি মতবিনিময় সভায় মিলিত হয়। বি.আই.পি.-র পক্ষ থেকে বাংলাদেশের নগর পরিকল্পনার সামগ্রিক বাস্তবতা ও সুপারিশমালা সম্বলিত সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনটি পিএসসি-র চেয়ারম্যান মহোদয়ের নিকট হস্তান্তর করা হয়।

 

 

Print
0 Comments:
All * fields are Required.
*
*

Archive